রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকা ॥
ঢাকা-৩ আসনে (কেরানীগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়ন) জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে বিএনপির প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটিতে ১০ প্রার্থীর মধ্যে সাত প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট বাতিলকৃত ভোটের চেয়েও কম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উমর ফারুক নির্বাচনের এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট। ১৬ হাজার ৫৫৩ ভোটের ব্যবধানে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এই আসনে নিজের জয় নিশ্চিত করেছেন।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ঢাকা-৩ আসনটি কেরানীগঞ্জের আগানগর, জিনজিরা, শুভাঢ্যা, কোন্ডা ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৪৩ জন, নারী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭১ জন ও হিজড়া ভোটার ৪ জন। এই আসনের মোট ভোটকেন্দ্র ১২৬টি।
এ আসনের প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৯৮। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৫৩ দশমিক ৭৫। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৩৬।
এ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮২ হাজার ২৩২ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুলতান আহম্মদ খাঁন হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৪৫ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফারুক আহমেদ লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭০ ভোট, গণসংহতির প্রার্থী বাচ্চু ভূঁইয়া মাথাল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির হোসেন ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৩১০ ভোট, বাসদের প্রার্থী মজিবুর হওলাদার মই প্রতীকে পেয়েছেন ১৯৬ ভোট, গণফোরামের প্রার্থী মোহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী উদীয়মান সূর্য প্রতীকে পেয়েছেন ১৭৪ ভোট, কংগ্রেসের প্রার্থী মোহাম্মদ জাফর ডাব প্রতীকে পেয়েছেন ১৫০ ভোট ও গণধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. সাজ্জাদ ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ ভোট।
নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুলতান আহম্মদ খাঁন (হাতপাখা প্রতীক) ৬ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও, বাকি সাত প্রার্থীর অবস্থা শোচনীয়। এই সাতজন প্রার্থীর প্রত্যেকেই স্বতন্ত্রভাবে যত ভোট পেয়েছেন, তার চেয়ে ওই আসনে বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা অনেক বেশি।
আসনটিতে বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৪২। প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ফারুক আহমেদ, বাচ্চু ভূঁইয়া, মনির হোসেন, মজিবুর হওলাদার, মোহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী, মোহাম্মদ জাফর ও মো. সাজ্জাদের সম্মিলিতভাবে পেয়েছেন ২ হাজার ৩৭৪ ভোট।